শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫১

২০২২ হোক নতুন করে বাঁচতে শেখার

dynamic-sidebar

আজ ২০২২ এর প্রথম দিন। কয়েকদিন আগে আমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বলছিলেন, তোমার জীবন নিয়ে একটা নাটক লেখো, তার কথার উত্তর দিয়েছি ২৪ পর্বের ধারাবাহিক হবে নয়তো বা মেগা সিরিয়াল।হঠাৎ মনে পরে গেল ৫বছর যাবত ভোর ৬ টায় ঘুমাতে যাওয়া আমি আজ সময় মতো ঘুমিয়ে উঠে কী করবো, বরং সকালটা সেলিব্রেট করি কিছু লিখে। ২০২১ সালের বছরটি হয়তো বা সবার জন্যেই খুব ভালো ছিল না।

সামনের বছর খুব ভালো হবে তার গ্যারান্টিও আমি দিচ্ছিনা।তবে এবারের চেয়ে ভালো হতে পারে। ক্ষত হতে যা সময় লাগে, তার থেকে অনেক বেশি সময় লাগে ক্ষত শুকাতে। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা আমার জীবনের সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছিলো। আর সে কারণে আমি অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম।তবে আমার সেই দুঃসময়য়ে আমার পরিবার এবং আমার সবথেকে কাছের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যাক্তিরা আমাকে যেভাবে সাপোর্ট দিয়ে আমার পাশে ছিলো তাদের সেই ঋণ আমি কখনও শোধ করতে পারবনা।সেই কয়েকটি তুচ্ছ ঘটনায় আমি হারিয়েছি অনেক, যা বুঝেছি চিনেছি, উপলব্ধি করেছি তার চেয়েও বেশি।

আমার নিজস্ব প্রাপ্তিকে নিন্দুকেরও ছোট করে দেখার অবকাশ সৃষ্টিকর্তা রাখেননি। কিন্তু আমি কি শুধুই আমার নিজের জন্য ভাববো? আমার জীবন কি শুধুই জবাবদিহি, দায়িত্ব আর স্ট্যাটাসের আবর্তে ঘূর্ণায়মান? “না” আমিও সকল বাঁধা অতিক্রম করে বাঁচতে শিখতে পারি।আমার জীবনে এখনও প্রতিদিনই একটা ভালো থাকার যুদ্ধ।তবে আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি আগের চেয়ে,কাজের মধ্যে নিজেকে খুঁজে বেড়াই,কাজ ভালোবাসি, তখনও কাজ করেছি, এখনও করছি।ভালো থাকুক সেই সকল স্বার্থপর মানুষরূপী বেঈমানরা।

২০২২ সাল নিজেকে আল্লাহর পথে চলার প্রত্যয়ে ২০২১ সালকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে। কবি জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা মনে পড়ে গেল,‘আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?/ কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’ শুধু কবি জীবনানন্দ দাশ নন, কেউই দুঃখের স্মৃতি মনে রাখতে চায় না।কিন্তু বাস্তবে চলতে গেলে পেছন ফিরতে হয়।সব বিদায়ের সঙ্গেই লুকিয়ে আছে এমন আনন্দ-বেদনার কাব্য।

সেটা বর্ষবিদায়ের বেলায়ও। বিদায় ২০২১। ইংরেজি বছরের পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী গতকাল শুক্রুবারের (৩১ ডিসেম্বর) সূর্যাস্ত আরেকটি খ্রিস্টীয় বছরের সমাপ্তি হয়ে আজ শনিবারের ভোরের সূর্য পৃথিবীর বুকে নিয়ে এসেছে আরেকটি নতুন বছর। বলতে হবে-স্বাগত ২০২২! বছরের এই শেষ দিনটিতে এসে ভালো-মন্দ আর আনন্দ-বেদনার স্মৃতিগুলো আরও একবার রোমন্থন করবেন অনেকেই। একইভাবে জীবনের সব ধরনের নেতিবাচক বিষয়গুলোকে দূরে ঠেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় নতুন করে পথচলার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন প্রায় সকলে। এছাড়া দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডগুলো মূলত ইংরেজি সালের গণনায় হওয়ায় খ্রিস্টিয় বছর বেশ গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জীবনে। সেদিক বিবেচনায় বিদায়ী বছরটা কেমন গেলো তার হিসাবও কষবেন কেউ কেউ।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর ভাবনায় নানাভাবে মূল্যায়িত হবে বিদায়ী এই বছরটি।বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে এবং বিভিন্ন জাতির নিজস্ব পঞ্জিকা থাকলেও ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানানো এবং বরণ করার রীতি আধুনিক জীবনাচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্বব্যাপী ৩১ ডিসেম্বরকে যেমন আয়োজন করে বিদায় দেয়া হয়, তেমন গভীর রাতে বিশেষ করে রাত ১২.০১ মিনিটে নতুন বছরকে জাঁকজমকভাবে বরণ করা হয়। আতশবাশি ফুটিয়ে, নানান বর্ণিল রঙে সাজিয়ে এবং রঙিন আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার রীতি প্রচলিত আছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষও এ রীতিনীতির বাইরে নয়। বাংলাদেশেও থার্টি-ফার্স্ট নাইটকে উদযাপন করে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর একটা রীতি মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশের প্রিন্ট-মাধ্যমের সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সালতামামি প্রকাশ করে। একটা সময় ছিল, উপহার হিসেবে প্রিয়জনদের নববর্ষের কার্ড উপহার দেয়ার রীতি। এখন সোশ্যাল মিডিয়া ই-কার্ডে সয়লাব হয়ে উঠে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশেও ইংরেজি নতুন বছরের আগমন ভালোমতো ঠাহর করা যায়।অবশেষে বিদায় নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে অঘটনের বছর হিসেবে ২০২১ সাল। একদিকে করোনাভাইরাসের দাপটে বিপর্যস্ত অবস্থা, অন্যদিকে বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। মহামারি ও বড় দুর্ঘটনার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিদায়ী ২০২১ সাল।

এসব অঘটনের মধ্যে শীতলক্ষ্যায় কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবি, মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, রূপগঞ্জে জুস কারখানায় আগুনে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল।বছরের শেষভাগে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ভাসমান লঞ্চে আগুন লেগে বহু প্রাণহানি নাড়া দিয়ে যায়।বিদায়ী বছর ২০২১- এ আমরা হারিয়েছি অনেক কিছু। অনেকে হারিয়েছেন স্বজন-প্রিয়জন। অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেকে। আবার কারো কারো প্রাপ্তিযোগও হয়েছে কোনো না কোনোভাবে। সালতামামি নিশ্চয়ই যে যার মতো করবেন।

তবে ২০২১কে বিদায় জানাতে মন হয়তো ভারাক্রান্ত হবে কম, কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে অঘটনের বছর হিসেবে মানুষের মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে ২০২১ সাল। নতুন বছর ২০২২-কে স্বাগত জানানো হবে আশায় বুক বেঁধে।পরিশেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা মনে পড়ে গেল,ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে/ঝরে ধুলায় ভোর বেলাতে/আমায় তারা ডাকে সাথে- আয় রে আয়। সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়.! ’ গানে গানে কথাগুলো বলেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজকের সূর্যাস্ত যেন এই গানের সঙ্গেই একাকার।কারো মনে হতে পারে, ২০২১ শুধু খারাপই ছিল! না, বললাম তো, এটা ছিল শেখার বছর, উপলব্ধির বছর। বন্ধু পেয়েছি, বন্ধু চিনেছি। এভাবে লিখতে পারাটাও আমার জন্যে এক রকম মুক্তি। এই মুক্তি আমার ভীষণ প্রয়োজন…।সবার নতুন বছর ভালো হোক।পরিবার পরিজন ভালোবাসার মানুষ পাশে থাকুক সবার। জীবন আসে জানান দিয়ে, বেশীরভাগ মৃত্যু অকস্মাৎ হয়। পরিবারের কাছে আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রতিজ্ঞা নিয়েছি। আপনাদের কাছেও ক্ষমা চাই।

একজন মুসলিম হিসেবে এটা আমাদের করণীয়। ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে। সব সমাধান তার কাছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।আমিও দোয়া করি সকলের জন্য, বিশ্ববাসীর জন্য। আমার যে শত্রু, সেও ভালো থাক, তাদের যেন হেদায়েত হয়।এবার না হয় নতুন বছরে আমরা নতুন করে মানুষ হতে চেষ্টা করবো। ভালো থাকা হোক, শুধুই ভালোবাসা হোক, নতুন বছর শুরু হোক সত্যের হাত ধরে।

এইচ আর হীরা :
বরিশাল ব্যুরো প্রধান
দৈনিক বাংলাদেশের আলো

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares