মঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৫

গণপরিবহনের পর বরিশাল থেকে এবার লঞ্চ চলাচল বন্ধ

dynamic-sidebar

অনলাইন ডেস্কঃ  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে যাত্রীবাহী নৌযানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।গতকাল শনিবার বেলা দুইটা থেকে বরিশাল থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।লঞ্চমালিকেরা বলেছেন, লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লঞ্চের ভাড়া পুনর্র্নিধারণের দাবি জানান তাঁরা।

 

 

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থা থেকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবের চিঠি পাঠানো হয়।অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থার কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ৩ নভেম্বর সরকার হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে নৌযান পরিচালনা ব্যয় বহু গুণ বেড়ে যায়। তেল, স্টিল ও অন্যান্য পণ্যের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তাই ব্যবসায় টিকে থাকার লক্ষ্যে লঞ্চভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ১ টাকা ৭০ পয়সার পরিবর্তে ৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

 

 

কিন্তু ওই প্রস্তাবে কোনো সাড়া না পেয়ে গতকাল বিকেল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় মালিকেরা লোকসান দিয়ে লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রাখতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।এদিকে বাংলাদেশ নৌযান চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন নেভিগেশনের মালিক সাইদুর রহমান বলেন, ‘২০১৩ সালের পর একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও লঞ্চভাড়া সমম্বয় করা হয়নি। চলমান প্রেক্ষাপটে আমরা চাই শতভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক। করোনাকালে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। লোকসান দিয়ে আর লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়।’লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ঢাকা থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত পথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

অপর দিকে শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বরিশাল নদী বন্দরে এসে ভিড় করতে থাকেন যাত্রীরা। এ সময় লঞ্চ বন্ধের খবরে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, তাদের অনেকে দুপুরে লঞ্চ ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু সন্ধ্যার পর তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় লঞ্চ ছাড়বে না। অথচ দুপুরে বা বিকেলে জানিয়ে দিলে তাদের এ দুর্ভোগে পড়তে হতো না।শনিবার বরিশাল নদী বন্দর থেকে রাজধানী মুখী ছয়টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনটি লঞ্চ ঘাট থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বাকি তিনটি ঘাটে নোঙর করা থাকলেও তা যথাসময়ে (রাত পৌনে ৯টা) ছেড়ে যায়নি।

 

 

এব্যাপারে নিজাম শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন জানান, জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় প্রতি ট্রিপে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার জ্বালানী খরচ বেশি হচ্ছে। কিন্তু সরকার ভাড়া পুনর্র্নিধারণ করেনি।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার সহসভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করলেও ভাড়া পুনর্র্নিধারণ না করায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লঞ্চ মালিক সমিতি গত শুক্রবার ভাড়া পুনর্র্নিধারণের দাবি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করে। শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ভাড়া পুনর্র্নিধারণের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এ অবস্থায় মালিক সমিতি লোকসানের আশঙ্কায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

তবে লঞ্চ না ছাড়ার খবরে কিছু যাত্রী ফিরে গেলেও, দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জাহাজ ও ভায়া লঞ্চের জন্য ঘাটেই অপেক্ষা করতে থাকেন।সন্ধ্যার পরে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি বাঙালি ঘাটে আসার পর কিছু যাত্রী তাতে চেপে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এছাড়া অন্য যাত্রীরা ঝালকাঠি থেকে ঢাকাগামী এমভি ফারহান ও পিরোজপুরের তুষখালী থেকে ঢাকাগামী (ভায়া) এমভি পুবালী-৭ নামে দুটি লঞ্চে চেপে যাত্রা করেন।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares