রবিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৩৮

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তির আবেদন করেও শেষ রক্ষা হলো না ছাত্রলীগ সভাপতির! 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তির আবেদন করেও শেষ রক্ষা হলো না ছাত্রলীগ সভাপতির! 

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চতায়র জন্য আবেদন করেও শেষ রক্ষা হলোনা ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনের।চলতি বছরের ২২শে মার্চ   বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দীন হায়দারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করেন তিনি। আবেদনে তিনি বরিশালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিগত দিনে যেসকল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সে বিষয়ে উল্ল্যেখ করে তিনি আবেদনটি জমা দিয়েছিলেন।

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা একটি সাধারণ বিষয়৷ ক্ষমতাসীন আর ক্ষমতা হারানো এবং ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে গ্রুপিং এর কারণে প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চলছে বছরের পর বছর৷ এই ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শিকার হন শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা৷ তারই প্রেক্ষাপটে ক্রমে ক্রমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ।দল ক্ষমতায় থাকা সত্যেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে দীর্ঘদিন যাবত হামলা,মামলা এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে  ত্রিশোর্ধ্ব এই উদীয়মান ছাত্রলীগ নেতাকে।বিগত প্রায় এক যুগ যাবত হামলা-মামলায় জর্জরিত থেকেও রাজপথে লড়াই করেছেন  জসিম উদ্দিন।পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়েছেন।

 

 

বলা বাহুল্য যে, তরুণ উদীয়মান এই নেতা রাজনৈতিক মাঠ দখল রাখতে গিয়ে যতটা না বিরোধী দল দ্বারা নিপিড়িত বা নির্যাতিত হয়েছেন, তার চেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন স্বদলীয়দের কাছে থেকে। তবুও তাদের রোহিত করা যায়নি, দৃঢ়চেতা মনবল নিয়ে তেজদীপ্ত জসিম ছিলেন নীতিতে অবিচল।সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের (২৭মে) বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগ নেতা  মো. রেজাউল করিম ওরফে রেজা হত্যা মামলায় প্রতিপক্ষরা জসিম উদ্দিনকে ফাঁসাতে মামলার এজাহারে সর্বপ্রথম তার নাম দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুসন্ধানী তদন্তে বেড়িয়ে আসে মূল ঘটনা এবং সেই মামলা থেকে ঘটনার কিছুদিন পরেই অব্যহতি লাভ করেন এই নেতা। বিশ্বস্ত এক সূত্র বলছে,২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর -৫ আসনে অংশ নিয়ে কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম জয়লাভ করেন।

 

 

 

নির্বাচনের পুর্বাপর জসিম এই নেতার সাথে থাকলেও বস্তুতপক্ষে রাজনীতির মাঠে তাকে কোনঠাসা করে রাখে গোষ্ঠীবদ্ধ নীজদলীয় নেতাকর্মীরা।এরপর নেতৃত্বের জায়গায় থেকে জসিম ঘুরে দাড়াতে না পারলেও ইমেজ ধরে রেখেছিলেন এবং নীতিতে ছিলেন অটল।সেই ত্যাগী উদীয়মান জসিমকে টলাতে বা তাদের শিবিরে ভিড়াতে না পেরে একের পর সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নানা মহলকে ব্যবহার করা হয়, অন্তত তাকে বিতর্কিত করে সভাপতির পদটি থেকে হঠাতে।রেজা হত্যা মামলায় ফাঁসাতে না পেরে নষ্ট রাজনীতির খেলায় মেতে উঠে গোষ্ঠীবদ্ধ ষড়যন্ত্রকারীরা।এরপর শুরু হয় ক্ষমতার অপব্যবহার।ক্রমে ক্রমে চলতে থাকে গভীর ষড়যন্ত্র। চলতি বছরের (১১ই জানুয়ারি)  রুপাতলী সাগরদী ব্রিজ এলাকায় জসিম উদ্দিনের ৬তলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন  অনুমোদনবিহীন নির্মাণ করেছে এমন অভিযোগ এনে ভবনটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা।

 

 

 

পরবর্তীতে তারা  চলতি বছরের (৭ই মার্চ) সন্ধ্যারাতে বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে দায় তার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।মিডিয়াকর্মীদের অনুসন্ধান এবং পুলিশের তৎপরতায় উঠে আসে হামলাকারী কারা এবং এর নেপথ্যে কাদের ইন্ধন রয়েছে। ফলে এ দফায়ও জসিমকে আটকাতে পারেনি গোষ্ঠীবদ্ধ চক্রান্তকারীরা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সর্বশেষ এই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ আনা হলো, যা সংগঠনের ইজ্জত নিয়ে টান দিয়েছে। এক তরুণীকে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছেন এমন একটি নেতিবাচক খবর সামনে আসে। পুলিশ বিষয়টি তদন্তধীন বললেও স্বদলীয় এক নেতার কর্মীরা জসিমের বিরুদ্ধে কোমড় বেধে মাঠে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম করে তোলে। নিজ ঘরের শত্রুভাবাপন্নদের অতিউৎসাহী হয়ে অপপ্রচার ও অভিযোগকারী তরুণীর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া নিয়েও নানান প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ-প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনের বাধ্য বাধকতা থাকলেও গোষ্ঠীবদ্ধ চক্রটি তোয়াক্কা করেনি।তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তরুণী ও জসিমের যে সকল ছবিসমূহ ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে, তা নিবিড় পর্যবেক্ষণ ভিন্ন কিছুর আলামত দিচ্ছে। অনেকেই ছবিগুলো এডিট করে জুড়ে দেওয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জসিমের দাবিও এমনটি।এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক চক্রান্তের পুনরায় শিকার আমি। যে মেয়েকে দিয়ে এই অভিযোগ করানো হয়েছে সেই মেয়ে সম্পর্কে আমার আত্মীয় হন। তাঁকেই ঢাল বানিয়ে বিয়ের পরেই আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এর আগেও টপ টেন কাপড়ের শোরুম ভাঙচুর করে আমার নাম দেওয়া হয়েছিল। পরে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে সত্য বেরিয়ে আসে।

 

 

 

এবারেও এমন ষড়যন্ত্রের শিকার আমি। মানসিকভাবেই আমাকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা।তিনি আরও বলেন, আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। আমাকে নানা ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে তাতে আমি নৌকার কর্মীর হিসেবে তারদ্বাড়স্থ হয়েছি।বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ তরুণীর অভিযোগটি ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। পুলিশের দায়িত্বশীল মহল বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রকার মন্তব্য না করলেও সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ যে এখানেও বিদ্যমান তা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন তারা।এদিকে অভিযোগকারী ওই তরুণী মুঠোফোনে জানান, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। এরপর গর্ভপাত।

 

 

তাঁকে ঘরে তুলে না নিলে জসিমের নানা অপকর্ম তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করার কথা বলেন এই তরুণী।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান,বিগত দিনেও বহুবার জসিম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, এখনো হচ্ছেন। তবে তরুণীর অভিযোগটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের  দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ থাকছে, জসিম যদি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকে বা তরুণী নিপিড়িত না হন, তাহলে নেপথ্য সিরিজ ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares