শনিবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫৪

বরিশালে স্বচ্ছলরাই পাচ্ছে ঘর ! খোলা আকাশের নিচে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

বরিশালে স্বচ্ছলরাই পাচ্ছে ঘর ! খোলা আকাশের নিচে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা/এইচ এম হেলাল॥ দেশের জন্য জীবন দিয়ে দেশকে শক্রমুক্ত করেছিলেন মুনসুর আলী আনসার  হাওলাদার। কিন্তু তার একটি সন্তানের জন্য কোন কিছুই রেখে যেতে পারেনি। এমনই এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আকাশ/বাতাস।খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে কোনমত জীবন যাবন করছে পরিবারটি। বরিশালে অনেক স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা মুজিববর্ষের জমিসহ ঘর পেলেও এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের দিকে দৃষ্টি পরেনি কারো।

 

এমনই এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার রয়েছে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্ববর্তী স্টিল ব্রিজের রাস্তার পাশে দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাদলা গ্রামের শহীদ বীব মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী আনসার হাওলাদারের পরিবারটি খুব অবহেলায় জীবন অতিবাহিত করছে।হঠাৎ করেই মাধবপাশা ষ্টীল ব্রিজ ভেঙ্গে সেতু নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেয় সড়ক বিভাগ। আর এতেই শেষ হয়ে যায় কহিনুর বেগমের ছোট্ট খুপড়ী ঘরের শেষ সম্বলটুকু।

 

 

গত ৫দিন যাবত খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তিনি।তাই একটা ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কহিনুর বেগম (৬৫)।কহিনুর বেগমের স্বামী প্রায় ৩০ বছর পূর্বে মারা গেলে তিন সন্তান নিয়ে রাস্তার পাশে সিএন্ডবি সড়কের পাশে সরকারি যায়গায় ছোট্ট একটা ঘর তুলে বসবাস করতেন।শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব ।জানতে চাইলে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী আনসার হাওলাদারের মেয়ে কহিনুর বেগম জানান, ১৯৭১সালের ২৭জুন আমার বাবা হিজলার একটা গ্রামে পাকিস্তানীদের গুলিতে শহীদ হন।‘দুই মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়েই আমার সংসার।বড় মেয়ের বিয়ের কিছুদিন পরে তার জামাই আমার কাছে রেখে আর খোজখবর নেয়নি।

 

 

 

ছোট মেয়ের বিয়ে দিয়েছি এবং ছেলের হার্টে সমস্যা তাই কোনো কাজ করতে পারতে না।বড় মেয়ে একটি বাসায় কাজ করে ৫হাজার টাকা পায় আর আমাকে মাঝে মধ্যে কিছু মানুষ সাহায্য করে তাই দিয়ে কোনো রকম আমাদের সংসার চলে।আমাদের কোন জমি জমা নেই সেই কারনে দীর্ঘদিন থেকে রাস্তার ধারে কষ্ট করে দুই মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে বসবাস করছি।সরকারের কাছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ব্যাচ নং ০৬০১০৪০২৩৫।বাবা বেচে থাকাকালীন এবং তার মৃত্যুর পরেও আমি তার সন্তান হয়ে সারা জীবন শুধু কষ্ট করেই গেলাম।আমি একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরেও আজ পর্যন্ত সরকার থেকে আমরা কোনো সাহায্য সহযোগীতা পাইনি এমনকি আমাদের বিষয়ে কেউ খোঁজ খবরও নেয়নি।মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেনো আমাদের পরিবারটির দিকে একটু সুদৃষ্টি দেন।

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী আনসার হাওলাদারের নাতনী মোসাঃ হিরা বেগম বলেন, আমার নানা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে,তার ওয়ারিশ শুধু আমরা,নানার মৃত্যুর আগে তিনি কোনো জমি রেখে যায়নি সেকারনেই আমার মা আমাদের নিয়ে সেই ছোট বেলা থেকে রাস্তার উপর বসবাস করতে থাকেন।আর আমি অন্যোর বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছি। শুনতেছি সরকার মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের বাড়ি করে দিচ্ছে আমাদেরকে যদি সেই সুবিধা দিতো তাহলে দুঃখ ঘুচে যেতো।বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমরা এই রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা ঘর তুলে বসবাস করছি।সেই ছোট থেকেই এখানেই বড় হয়েছি।

 

 

আজ সরকার আমাদের জমি নিয়ে যাওয়াতে আমরা খুবই অসহায় হয়ে পরেছি।তিনি আরও বলেন, অভাবের কারণে বেশি
লেখাপড়া করতে পারিনি। তাই সরকারি চাকুরি চাইনা চাই মাথা গোজার জন্য সঠিক ঠিকানা।প্রতিবেশী আজাহার মিয়া বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী আনসার হাওলাদারের সম্পর্কে আমাদের এলাকার সকলেরই জানা আছে, তবে তাদের লোকজন ও টাকা পয়সা না থাকায় দেশের জন্য শহীদ হয়েও তার পরিবার আজ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।এমনিতেই তারা খুব অসহায় জীবন যাপন করছে তার মধ্যে ঘরটি হারিয়ে তার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার ভূমিহীনদের বাড়ি করে দিচ্ছে সেই সুবাদেও তো তারা একটা ঘর পাওয়ার যোগ্য।ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যদি তাদের জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে তাদের আজ এই অবস্থায় থাকতে হতোনা।বর্তমানে আমাদের পরিষদে চলে স্বজনপ্রিতি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের আত্বীয় স্বজনরা স্বচ্ছল থাকা সত্ত্বেও তারা গৃহহীনদের বরাদ্দকৃত
জমি ঘর পাচ্ছে আর এরকম অসহায় অনেক পরিবার রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

এব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের খোঁজ খবর নিয়ে আমরা অবশ্যই সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তাকে যাতে একটা ঘর করে দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করবো।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares