রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রাত ১২:৫৭

শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে হলুদ অটোর ভুয়া টোকেন বাণিজ্য জমজমাট! বরিশালে কমিউনিটি পুলিশিং ডে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিএম কলেজের প্রভাষকের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মােঃ শফিকুল ইসলামের বাণী কয়েদির পোশাকে মিন্নির ‘ছবি’ ফেইসবুকে ভাইরাল লঘুচাপের সম্ভাবনা, ২ দিনের মধ্যে বরিশালসহ বিভিন্ন যায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রিফাত হত্যা : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামিকে বরিশাল কারাগারে স্থানান্তর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বরিশালে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত বরিশালে বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে যুবক আহত শেবাচিমে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোর অপরাধ ও সংশোধন

dynamic-sidebar

অনলাইন ডেস্কঃ কিশোর বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক তথা বাল্য ও যৌবনের মধ্যবর্তী বয়সের ছেলেমেয়েদের বোঝায়। এ বয়সে কিশোর যে অপরাধ করে, সেটাই কিশোর অপরাধ।

কিশোর অপরাধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। সব সমাজেই রয়েছে এর অনিবার্য উপস্থিতি। তবে প্রকৃতি ও মাত্রাগত দিক থেকে তা বিচিত্র। বর্তমান সমাজের অস্থিরতার ফলে শিশু-কিশোররা ক্রমাগতভাবে মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সারা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান হারে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক এ ব্যাধি সমাজ বা রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের পথে এক বিশাল প্রতিবন্ধকতা।

কৈশোরকাল মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ স্তর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিবিধান ও সামাজিক দায়দায়িত্ব আরোপিত হয়। এর আগ পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধান পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

সামাজিক এ সমস্যা গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই রয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় দেশে কিশোর অপরাধ বা অপরাধীকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যেমনÑশহর এলাকার কিশোর অপরাধী; গ্রাম এলাকার কিশোর অপরাধী; নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোর অপরাধী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোর অপরাধী। কিশোর অপরাধের মধ্যে প্রধানত জুয়া খেলা; নেশা করা; খেলার মাঠ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি; বাস, ট্রেন ও সিনেমাহলে বিনা টিকিটে যাওয়া, পরীক্ষায় নকল করা, এসিড নিক্ষেপ, রাস্তাঘাটে ছিনতাই, মারপিট, অন্যের বাগানের বা ক্ষেতের ফল ও ফসল চুরি করা প্রভৃতি লক্ষ করা যায়। সাইবার ক্রাইম ও খুনসহ বড় বড় অপরাধও ইদানীং বাদ যাচ্ছে না কিশোর অপরাধ থেকে।

কিশোর অপরাধ প্রত্যয়টির সংজ্ঞায়নে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিশোর বয়সে অবাঞ্ছিত ও সমাজবিরোধী আচরণ সম্পাদন করাকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রের এক অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, সমাজ কর্তৃক অনাকাক্সিক্ষত আচরণ প্রদর্শনে কিশোরদের ব্যর্থতাই কিশোর অপরাধ। আইনগত দিক থেকে কিশোর অপরাধ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে কর্তৃক আইনবিরোধী দণ্ডনীয় কর্ম সম্পাদন করাকেই বোঝায়। কিশোর বয়সিদের দ্বারা সংঘটিত সমাজে বিদ্যমান মূল্যবোধ ও নিয়মনীতিবিরোধী কাজই কিশোর অপরাধ। কিশোর অপরাধ হলো প্রচলিত সামাজিক নিয়মকানুনের ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের অবৈধ হস্তক্ষেপ। কোনো শিশুকে তখনই অপরাধী মনে করতে হবে, যখন তার অসামাজিক কাজ বা অপরাধ প্রবণতার জন্য আইনগত ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে। মূলত বিশেষ ধরনের অস্বাভাবিক ও সমাজবিরোধী কাজ, যা কিশোর-কিশোরীরা সংঘটিত করে, তা-ই কিশোর অপরাধ। তবে সামাজিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, শহর, গ্রাম বা এলাকাভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এক সমাজে যে কাজ বা আচরণ মূল্যবোধ ও নীতিবিরোধী, অন্য সমাজে তা নাও হতে পারে।

কিশোর-কিশোরী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা চিন্তাভাবনা না করে আবেগের বশবর্তী হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ দ্বারা অতি সহজে ও স্বল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। তারা উদ্দেশ্যহীনভাবে, কৌতূহলবশত বা নিজেকে জনগণের সামনে প্রকাশ করার জন্য অপরাধ করে থাকে। অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশে সামাজিক সংগঠন ও কার্যাবলির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে তারা সমাজবিরোধী কাজে অংশ নেয়। কিশোররা তাদের নিজের চিন্তা ও কাজকে সঠিক বলে প্রাধান্য দেয়। অতি উৎসাহ ও কৌতূহলের বশে উদ্দেশ্যহীনভাবে অসামাজিক কাজ করে ফেলে। যথাসময়ে তাদের সংশোধন করা না হলে কালক্রমে তারা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে।

শিল্পোন্নত ও পুঁজিবাদী সমাজের মতো বর্তমানে স্বল্পোন্নত সমাজে কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রবণতা বাড়লেও সাম্প্রতিককালে এ প্রবণতা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে বিদ্যমান হতাশা, নৈরাজ্য আর দারিদ্র্য কিশোর অপরাধ সৃষ্টির প্রধান কারণ। শহরের দূষিত পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন, অশিক্ষা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কিশোরদের চুরি, ছিনতাই ও পকেটমারের কাজের মতো অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য করে অনেক ক্ষেত্রেই। মূলত সামগ্রিকভাবে কিশোর অপরাধের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ভগ্ন পরিবার ও বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ এবং নিরাপত্তার অভাব দায়ী। এছাড়া চরম দারিদ্র্য ও বাবা-মায়ের অবহেলা শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শিশুকে কাজে বাধ্য করা, খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে চলাফেরা, পারিবারিক অস্থিতিশীলতা ও অসম্প্রীতি, বাবা বা মায়ের পুনর্বিবাহ, পর্যাপ্ত শিশুযতেœর অভাব, অতিরিক্ত শাসন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্ষণশীলতা, বাবা-মায়ের পরস্পরবিরোধী মানসিকতা, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কিশোরদের অপব্যবহার, সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, অপসংস্কৃতির প্রভাব প্রভৃতি কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রভাবকের কাজ করে।

কিশোর অপরাধ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সব সময় পরিবারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। কেননা পরিবার মানুষের আদি সংগঠন ও সমাজজীবনের মূলভিত্তি। পারিবারিক পরিমণ্ডলে সন্তানের বিকাশ শুরু। সন্তানের স্বাভাবিক ও সুস্থ বিকাশের জন্য বাবা-মায়ের মধ্যে সম্প্রীতিময় দাম্পত্য জীবন একান্ত অপরিহার্য। বাবা-মায়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও কলহ-বিবাদ থাকলে সন্তানের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা শিশু-কিশোরদের যথাযথ বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের অপরাধপ্রবণ হতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

কিশোর অপরাধের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বিষয়। তথাপি অপরাধবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিশোর অপরাধের কারণ অনুসন্ধানের প্রয়াস চালিয়েছেন। কিশোর অপরাধের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে প্রখ্যাত ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আরনল্ড টয়েনবি অভিমত ব্যক্ত করেন, বর্তমানের ধর্মহীনতাই অন্যান্য অপরাধের মতো কিশোর অপরাধের জন্য দায়ী। অন্যদিকে সমাজতন্ত্রের জনক কার্লমার্কসের মতে, কিশোর অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রভাব। আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞানের জনক সিজার লোমব্রোসো কিশোর অপরাধের কারণ হিসেবে জৈবিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন। সমাজবিজ্ঞানী হিলি ও ব্রোনো কিশোর অপরাধের কারণ হিসেবে সামাজিক পরিবেশের প্রভাবকে চিহ্নিত করেছেন। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড কিশোর অপরাধের কারণ অনুসন্ধানে বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তে মানুষের মনোজগতের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিশু-কিশোররাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাদের উন্নতি ও অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে দেশ ও জাতির উন্নতি। কোনো কারণে তারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে জন্য হুমকি হোক, সুস্থ সমাজের জন্য প্রতিবন্ধক হোকÑনিশ্চয়ই তা কারও কাম্য নয়। শিশু-কিশোরদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এবং অপরাধমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করতে সর্বজনীন ও কল্যাণকর নীতিমালা মেনে চলা উচিত।

কিশোর অপরাধের কারণে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট হয়, প্রকাশ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও পকেট মারার মতো অপরাধ জনগণের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘœ ঘটায়। কিশোর অপরাধের কারণে সমাজে মাদকাসক্তি ও যৌনাচার বেড়ে গিয়ে সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায়। বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি অবাধ্যতা এবং অশোভন আচরণ পারিবারিক জীবনে শৃঙ্খলা নষ্ট করে। সর্বোপরি কিশোর অপরাধ কিশোরদের অর্থবহ জীবনকে ধ্বংস করে জাতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। বিপথগামী কিশোর-কিশোরীরা সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের শিশু অপরাধীদের বিচার ও সংশোধনের জন্য রয়েছে পৃথক আদালত ও সংশোধনাগার। শিশুদের বয়স বিবেচনায় নিয়ে শিশু ও কিশোরদের অপরাধের বিচার ও সংশোধন করতে এ ব্যবস্থা। বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সঙ্গে একই আদালত বা কার্যক্রমের মতো শিশুদের বিচার না করার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ সংশোধন কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৪৯ সালে। পরে স্বাধীন দেশে ১৯৭৪ সালের আইনের অধীনেই দেশের প্রথম কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠিত হয় টঙ্গি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। ১৯৭৮ সালে এই আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ আদালতটি প্রতিষ্ঠত হয় ২০০৩ সালে। আমাদের দেশে শিশুদের জন্য পৃথক বিচার ব্যবস্থার সূচনা ১৯৭৪ সাল থেকেই। ১৯৭৪ সালের শিশু আইন ও ১৯৭৬ সালের শিশুনীতিই আমাদের প্রথম আইন ও বিধি। এর পর থেকে বিভিন্ন আইনে শিশুদের কথা বলা আছে। কিন্তু শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইন ১৯৭৪ সালের আইনটিই। এটি ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে।

আইনে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় শিশু আদালত প্রতিষ্ঠার কথা বলা আছে। কিন্তু সমগ্র দেশে ৬৪টি জেলা শহরের জন্য যশোর, টঙ্গি ও কোনাবাড়িতে রয়েছে মাত্র তিনটি কিশোর আদালত। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টঙ্গি আদালতের অধীনে আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং যশোরের মধ্যে আছে খুলনা রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগ। অন্যদিকে কোনাবাড়িতে কেবল মেয়েশিশুদের জন্য আদালত ও সংশোধনাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৬৪টি জেলার জন্য তিনটি আদালত কতটা অপ্রতুল তা বলাই বাহুল্য। জনসংখ্যা ও কিশোর অপরাধীদের সংখ্যার তুলনায় কিশোর আদালত এবং সংশোধনাগারের সংখ্যা খুবই কম।

আবার প্রয়োজনের তুলনায় প্রবেশন কর্মকর্তাও আছেন খুব কম। এ কারণে অনেক সময়ই বিচার ও আদালতের কার্যক্রমে বিঘœ ঘটে এবং বিচার প্রক্রিয়াটিও শিশুবান্ধব হয় না। ২০১৩ সালের সংশোধিত শিশু আইনটি কার্যকর একটি আইন। এটি শিশুদের অধিকার ও বিচারের ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইন। কিন্তু সক্ষমতার অভাবে এ আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশু-কিশোর তথা রাষ্ট্র। কারণ ২০১৩ সালে শিশু আইনটি সংশোধিত হলেও এর পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখনও হচ্ছে না। কিশোর আদালতের এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা হলো আদালত শিশু বা কিশোরের কোনো গুরুতর অপরাধ আমলে নিতে পারে না। গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোর বিচার হয় জেলা ফৌজদারি আদালতে।

তথাপি বর্তমানে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ সংশোধনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান আছে। কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের জন্য কিশোর হাজত, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রবেশন, প্যারোলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ ব্যবস্থা আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে অপরাধী কিশোরদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে কিশোরদের সংশোধনের ব্যবস্থা করাই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

কিশোর অপরাধ সৃষ্টিতে শুধু কিশোররাই দায়ী নয়, এজন্য দায়ী আমাদের পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা। তাই শুধু সরকারের একার পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারি প্রচেষ্টা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এ ক্ষেত্রে।

আইনে শিশু অপরাধীদের বিচারের চেয়ে তাদের সংশোধনের বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে তাদের বিচারের প্রক্রিয়াটিও হতে হবে সংশোধনমূলক, যেন কিশোর হƒদয়ে তা কোনোভাবেই বিরূপ প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে না পারে। আর সে আলোকেই তাদের জন্য পৃথক আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিশোর সংশোধনাগার প্রতিষ্ঠার কথা। আমাদের সচেতন থাকতে হবে বিচারের ক্ষেত্রে শিশুদের মানবাধিকার যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়। শিশু ও বয়স্কদের যেন একইভাবে এবং একই আদালতে প্রকাশ্যেই বিচার করা না হয়। এমন হলে তা শুধু আইনই নয়, মানবিকতা ও মানবাধিকারেরও পরিপন্থি হবে। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের সক্ষমতা বা সুযোগ সীমিত হলেও আমাদের যেটুকু আছে, তার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে। এর কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares