শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রাত ১১:১৮

বরিশাল নগরীর সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ দখলের মহোৎসব

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা :: রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা যেনো একটি সাধারণ ব্যাপার।যে যার ইচ্ছামতো ফুটপাত দখল করেন। কেউ আবার ফুটপাত ভাড়া দিয়ে টাকাও তোলেন।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা বা ফুটপাতের উপরে বিভিন্ন দোকান বসানো হয় রাস্তা দখল করে।কোনো কোনো জায়গায় তো রাস্তার উপরেই ভাসমান দোকান বসিয়ে দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

এতে যেমন পথচারীদের হাঁটায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয় আবার গাড়ি চলাচলের গতিও কমে যায়।বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বহুবার রাস্তা ও ফুটপাতের উপর দোকান সরানোর জন্য অভিযান পরিচালিত করেছে। কিন্তু, ফলাফল শূন্যই থেকে গেছে।শূন্য থাকার পেছনে অবশ্য কিছু কারণও রয়েছে। বড় কারণ প্রভাবশালীদের প্রভাব। কেননা, তারাই টাকার বিনিময়ে ফুটপাত এবং সড়ক দখল করে দোকান বসার সুযোগ করে দেন।

কিছু কিছু যায়গায় দখল ও ষ্টেশন চাঁদাবাজির ঘটনায় মারামারি থেকে শুরু করে রক্তপাত পর্যন্ত হয়ে থাকে।স্থানীয় সাধারন সচেতন ব্যাক্তিদের মধ্যে কেউ কিছু বলতে গেলে নিজেরাই পরেন বিপদে।ফলে এই ধরনের দখলের সংখ্যাও প্রচুর বাড়ছে। যেমনটি দেখা গেলো বরিশাল নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের সম্মুখে এবং নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মূল ফটকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মূল ফটকে বেশকিছু ফলের দোকান অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা।যদিও তিনি এসব দোকান থেকে চাঁদা তোলার কথা অস্বীকার করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যাবসায়ী জানান,নেতারা কি এখানে আসেন! আসেতো তার কর্মীরা। প্রতি মাসে তার লোকেরা এসে দোকান ভাড়া বাবদ টাকা নিয়ে যায়।বাস টার্মিনালের অবৈধ স্থাপনা নিয়ে এর আগেও কয়েকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও অলৌকিক শক্তির বলে বিসিসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে গত মাসের ২০ তারিখ থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের হস্তক্ষেপে নথুল্লাবাদ এলাকার জেলখাল পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কঠোর পরিশ্রমে জেলখাল পরিষ্কার এবং খালের উপরে ব্রিজ সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়া হয়।কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই গত (৩অক্টোবার) শনিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা পাবেল এবং বিসিসি’র ২৮নং ওয়ার্ডের দ্বায়ীত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয়ন মিলে পূনরায় দখল বাণিজ্য শুরু করেছে।বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্ষমতাশীন দলের এক নেতা।সড়ক দখল করার বিষয়ে নিষেধ করলে স্থানীয় ঐ নেতাকেও তারা লাঞ্চিত করেছে বলে জানা গেছে।

এসময় দীর্ঘদিন যাবত দোকান পরিচালনা করা এক চা দোকানিকে তার দোকান সরিয়ে নিতে বলেন পাবেল। তিনি দোকান না সরিয়ে পাবেলের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে গালাগালি করেন,এক পর্যায় দেখে নেয়ার হুমকি দেন পাবেল।যার একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।বিশ্বস্ত সুত্র যানায়, বিসিসি’র ২৮নং ওয়ার্ডের দ্বায়ীত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয়নের সাথে প্রতি দোকান বসানো বাবদ ৮হাজার টাকার একটি চুক্তির মাধ্যেমে দোকান গুলো বসানো হয়।ভিডিওতে দেখা গেছে ,নয়ন নিজে দোকান বসিয়ে দেন পাশাপাশি কে কতটুকু স্থান নিয়ে বসবেন তাও তিনি নির্ধারন করে দেন।

এব্যাপারে ২৮নং ওয়ার্ডের পরিস্কার পরিছন্নতা শাখার সুপারভাইজার মোঃ মাহামুদ জানান,আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় সকল অবৈধ দোকান সরিয়ে দিয়েছি।তবে পুরায় দোকান বসানোর ব্যাপারে আমার জানা নেই।তিনি আরো বলেন,যদি কেউ বিসিসি’র নাম ভাঙিয়ে কোনো দোকানীর থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং তার প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবেনা।এবিষয়ে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দ্বায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যাটনারি সার্জেন ডাক্তার রবিউল ইসলাম বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই, তবে এরকম কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares