সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, বিকাল ৫:৩৮

শিরোনাম :
বরিশালে দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসী হামলা বরিশালে পিতা-পুত্রকে হত্যার তিন ঘাতক গ্রেফতার বরিশাল বিআরটিসির ডিপোর নিলামের অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে গেলো ঠিকাদার! পটুয়াখালীতে করোনা পজিটিভ হয়েও রোগী দেখছেন ডাক্তার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার লকডাউন বরিশালে অভিভাবকদের অসচেতনতায় করোনা ঝুকির মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারীরা উজিরপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় বরিশাল নগরীর আগরপুর রোড সাহান আরা বেগম’র স্মরণে শব্দাবলীর স্মারকগ্রন্থ পুলিশের নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে: ডিসি খায়রুল আলম দীর্ঘ মেয়াদি সুস্থতায় ইয়োগার বিকল্প নেই : বিএমপি কমিশনার
বরিশালের পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘উদ্যোগ’র চেষ্টায় ঘরে ফিরলো ইব্রাহিম

বরিশালের পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘উদ্যোগ’র চেষ্টায় ঘরে ফিরলো ইব্রাহিম

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক : লকডাউনে ১২ বছরের ইব্রাহিমের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাড়িও ফিরেও যায়, কিন্তু বাবার অভাবের সংসার, তাই আবারো ফিরে আসে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায়। এরপর সেখানে সে ভাসমান পথ শিশুদের সাথে দিন কাটাতে শুরু করে। আর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন উদ্যোগের দেওয়া খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতে থাকে।যদিও এরইমধ্যে পাশের একটি মুরগির দোকানে কাজও নেয় সে। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে ১৬০ টাকা জমিয়েছে। তা জমা রেখেছেন লঞ্চঘাট এলাকার একজন পত্রিকা বিক্রেতার কাছে।

তবে গত ৪ মে রাতে নদীবন্দরে অসহায় ভাসমান মানুষদের খাবার দিতে এসে বিষয়টি নজরে আসে উদ্যোগ কর্মী সৈয়দ মেহেদী হাসানের। তিনি পুরো বিষয়টি যেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওসহ স্ট্যাটাস দেন। যে বিষয়টি দ্রুতই দৃষ্টিগোচর হয় ঝালকাঠি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান-পিপিএম (বার) এর।

তিনি ওই গণমাধ্যমকর্মী ও উদ্যোগের আরো এক কর্মীর সহায়তায় ১২ বছরের ইব্রাহিম ওরফে সুজনের তথ্য নেন। পরবর্তীতে সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে সুজনকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়া এবং খাদ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীকে জানান। পুলিশের ওই কর্তার অনুরোধে ইব্রাহিমকে সাথে নিয়ে বরিশাল নদী বন্দর থেকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের তবিরকাঠি গ্রামে যান গণমাধ্যমকর্মী সৈয়দ মেহেদী হাসান ও খান মাইনউদ্দিন।

মেহেদী হাসান জানান, সেখানে যাওয়ার পর ইব্রাহিমের বাবা মাসুদ সিকদারের হাতে ছেলেকে তুলে দেয়া হয়, পাশাপাশি তার সাথে মুঠোফোনে কথা হয় পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসানের। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ওই পরিবারকে নিজ উদ্যোগে মাসিক খাদ্যপণ্য প্রদান করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিমাসে কিছু ব্যয়ভার বহনের কথাও জানান।

স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেনিতে পড়ুয়া ইব্রাহিম জানান, বাবার অভাবের সংসার। সেখান থেকে পালিয়ে প্রায় ২ মাস পূর্বে বরিশাল-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চে চাকুরি নেয়, তবে সে লঞ্চে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সে অন্য একটি লঞ্চে চাকুরি নেয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে বিপাকে পড়ে। ইব্রাহিমের বাবা মাসুদ সিকদার জানান, দেনাগ্রস্থ হয়েও পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে দিনমজুরি করে কোনভাবে সংসার চালান সে।

স্ত্রী স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ শত টাকা বেতনে চাকুরি করেন। তবে করোনার কারেন তিনি বেহাল দশায় পরে যান। ইব্রাহিম বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে জানিয়ে বাবা আরো জানান, বকাঝকা করায় প্রায় ২ মাস পূর্বে ইব্রাহিম বাড়ি থেকে চলে যান, এরপর কয়েকদিন পরে জিডিও করা হয় এবং ১৬ দিন পরে তার সন্ধানও পাওয়া যায়। বাড়িতে নিয়ে আসা হলেও আবার সে চলে যায়।

দ্বিতীয় দফায় ইব্রাহিমকে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা অভাবের কারনেই আর করা হয়নি। এরপর পুলিশের ওই স্যার ইব্রাহিমকে লোকদিয়ে বাড়ি পাঠায় এবং কিছু খাদ্য সহায়তা দেয়। যা দিয়ে এখনও কোনভাবে টিকে রয়েছেন বলে দাবি মাসুদ সিকদারের।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares