রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, সকাল ৮:৩৪

ক্রিকেট তারকা মাশরাফির ভাই রিক্সা চালায় বরিশালে! 

ক্রিকেট তারকা মাশরাফির ভাই রিক্সা চালায় বরিশালে! 

dynamic-sidebar

শাকিব বিপ্লব, বিশেষ প্রতিবেদক :করোনা ভাইরাস নিয়ে গণসচেতনতায় অগ্রনী ভুমিকায় থাকা পুলিশের হম্ভিতম্ভি দেখে এক তরুন দ্রুততায় রিক্সা চালিয়ে একটি গলির ভিতরে আশ্রয় নিলেন। হাসপাতাল রোড লাগোয়া অমৃত ফুড প্রোডাক্ক্সের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐ গলির প্রান্তে এসে রিক্সার যাত্রি বসার যায়গায় নিজেই বসে স্থানিয় যুবকের ব্যাস ধরেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পরন্ত বিকেলে সেখানে দাড়িয়ে থাকার প্রাক্কালে এই দৃশ্য চোখে পরে এবং কিছুটা উৎসাহ বোধ হয় আগন্তক ঐ যুবকের পরিচয় পরিচিতি নিয়ে। এক ফাঁকে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় ঐ যুবককে আমন্ত্রন জানানো মাত্র নিজে এসে শরিক হলেন চারিদিকের পরিবেশে আতঙ্কিত দোকানির টিনের ছায়া তলে।

চা পান শেষ করতেই প্রশ্ন রাখলেন, দাদা কোথাও যাবেন? প্রতিত্তরে জানালাম চল যাই সদর রোড। কাজ না থাকলেও ওর সাথে ঘোরা এবং আলাপের তাগিদেই সময় খরচ করতে এই উদ্যোগ নিয়ে রিক্সায় চাপা মাত্র যুবকের মন্তব্য ভাই আপনি বড় মজার লোক, আমিও তেমনই। আমার ভাই জাতীয় ক্রিকেটের নায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আপনার মতোই আমার সাথে মজা করে।

ওর পরিচয় শুনেই কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলাম বটে। পড়ে নানা কায়দায় প্রমান মেলে মাশরাফির ভাই শাকিবই হচ্ছে এই যুবক। যার বাড়ি কিনা নড়াইল শহরের ছোট একটি গ্রাম্য এলাকায়। এই আলাপচারিতার প্রাক্কালে ওর ভাষা শুনে অলপতেই অনুমান করেছিলাম যশোর অঞ্চলের বাসিন্দা এই যুবক কাজের তাগিদে বরিশালে এসেছে।

ওকে অনুমান নির্ভর এই প্রশ্ন করা মাত্র হাসি দিয়ে বলে ওঠলেন আপনি সত্যি ধরলেন কেমনে? এক পর্যায় ও আমার ভাষা শুনে ওরও ধারনা হলো আমার বাড়িও ওদের অঞ্চলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য জন্ম সুত্রে যশোরে থাকায় এবং সেখানে শৈশব কৈশর পড়ি দিয়ে আসায় এখনো ঐ অঞ্চলের ভাষা কানে ধ্বনিত হলে পিছনে ফিরে তাকাই, জানতে চাই কোন এলকার নাগর তুমি। রিক্সায় দুজনে নাজির মহল্লা দিয়ে বের হওয়ার তালে তালে দুজনের আলাপনে যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলাম, এনেক দিনের পরিচিত এমন আঞ্চলিক দুর্বলতার আলোকে।

ঘুরে সদর হাসপাতাল রোডের সম্মুখে নিয়মিত একটি দোকানে যাওয়ার অভ্যেস থাকায় সেখানে দাড়ালাম ওকে বল্লাম আবার চা খাই। দোকানি লাল চা খাওয়ার প্রস্তাব আমার কাছে ভাল না লাগলেও ও এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। এই চা খাওয়ার তালে তালে ওকে প্রশ্ন রাখলাম বরিশালে কেন আসা, এবং নাম কি?

প্রথমেই বললেন ভাই আমি এইচ এস সি উর্ত্তীন কিন্তু বেশি দুর এগোতে পারিনি। পেশাগত ভাবে তার অবস্থান কোন পর্যায়ে। বললেন বার্জার পেইন্ট কম্পানিতে ঢাকার উত্তরার কর্মস্থল করোনা ইস্যুতে কতৃপক্ষ ছুটি দিয়েছে। ত্রিশ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেলেও হাতে তেমন টাকা না থাকায় বরিশালে অবস্থান করেন, এমন এক বন্ধুর কাছে আশ্রয় নিয়েছে গত ৪ দিন।

ঐ বন্ধু বিসিক শিল্প এলাকার কাউনিয়ার শেষ প্রান্তে একটি ম্যাসে থাকার ব্যবস্থা করেছে, খাওয়া দাওয়া বাহিরে। ঐ বন্ধু রিক্সা চালায় বিদায় নিজের ভিতরেও রিক্সা চালানোর মানুষিকতায় একটি তিন চাকার এই বাহন ভাড়া নিয়েছেন। এমনিতেই হাতে টাকা নেই, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অন্য কোন কাজের সুযোগ নেই। রিক্সাই হচ্ছে এখন নগদ আয়ের এক মাত্র পথ বিধায় রাস্তায় নেমেছে অপরিচিত অপরিজনের বরিশাল শহরে।

এক প্রশ্নে বললেন তাদের বাড়ি নড়াইল শহরের বাস স্টান্ড সংলগ্ন আলাদাতপুর এলাকায়। তারা বিশ্বাস বংশের এবং পরিচিতি পেয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার বদৌলতে। অবশ্য বললেন মাশরাফি তার মায়ের পেটের ভাই নয়, আপন চাচার বড় ছেলে। ৪ ভাই তিন বোনের মধ্যে শাকিব ৩য়।

ওর বাবারা ৫ ভাই। মাশরাফি বিন মর্তুজারার বাবা চাচারা মিলে ৬ জন। একত্রিত থাকা এই বিশ্বাস বাড়ির সাবাই কম বেশি শিক্ষিত, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা ব্যাবসা বানিজ্যের সাথে যুক্ত। শাকিবের বাবা শহরেই একটি কাপড়ের দোকান চালিয়ে প্রতিষ্টিত। তবে স্টোক করার কারনে বিছানা শয্যা হওয়ায় অপরাপর ভাইরা কাজের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

শাকিব নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ জীবন থেকেই বেশ স্টাইলিষ্ট বলে নিজের মানুষিকতার নিজেই ব্যাক্ত করলেন। অবিস্বাশ্য নয়, হাল সময়ের ছেড়া জিন্স প্যান্ট ও কালারফুল টি-শার্ট পড়া দেখে তা অনুমান করা যায়। আপাতমস্তোক গায়ের রং সুন্দর এই যুবকের চুলের স্টাইলও পশ্চিমা কোন চলচ্চিত্রের নায়কের আদল ধরা পরে। বাদামি কালার রং দেওয়া চুলে আর জিন্স প্যান্ট পরিহিত যুবকের হাটা চলা ও কথাবর্তা ও মন্তব্যে তার পরিচয় আপনাআপনি সত্যের কিনাড়ায় উঁকি দেয়।

শাকিবের মজার উক্তি বরিশাল বড়ই ভালা, কিন্তু পুলিশ করছে বারাবাড়ি। তাছারা ছিচকে এক মান্তানের কবলে পরে ৫শত টাকা খুইয়ে তিন রাত রাগে না খেয়ে ছিলেন। স্টাইলিশ এই যুবকের শখ ছিল হাতে ট্যাটু আঁকা। কাউনিয়া প্রথম গলিতে পেশাগত ভাবে দক্ষ শাওন নামক এক যুবকের কাছে গিয়েছিল শরীরের এক অংঙ্গে ট্যাটু ছাপ দিতে। কিন্তু তা তো দেয়নি উপরন্ত মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে।

একসময়কার পড়শির এই বিপদে দ্বায়ীত্ব রাখার তাগিদ অনুভবে ঐ গলিরই বাসিন্দা কাউনিয়া ২ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন জিয়ার কাছে ফোন করে কথা বিস্তারিত বলার আগেই সেখানে একটি গোলযোগ সমাধানে এই আ’লীগ নেতা ব্যাস্ত হয়ে পড়ায় বললেন ভাই কিছু পড়েই ফোন দিচ্ছি।

আর দেয়া হয়নি জানতেও পারিনি তার বাড়ির পিছনেই থাকছেন জাতীয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার ছোট সহদর আশ্রয় নিয়েছে, প্রতারিতও হয়েছে। কিন্তু জবাব চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না অচেনা শহর ঘুরে দেখার ব্যস্ততার মানুষিকতায়। শাকিবের ক্ষোদউক্তি নড়াইল হলে বুঝিয়ে দিতাম প্রতারনার নয়ছয়ের জবাব কি।

মাশরাফি বিন মর্তুজা তাকে খুব আদোর স্নেহ করেন, বাড়িতে আসলেই সঙ্গি করে রাখেন। তার কাছে বরিশালে অবস্থান বা প্রতারনা কোনটাই বলা যাবে না। বললে খবর আছে। অনুরোধ রাখলাম তোর একটি ছবি তুলি। প্রতিত্তরে রাজি হয়ে সেও পাল্টা অনুরোধ রাখলো ছবি ফেজবুকে দেয়া যাবে না।মাশরাফি বিন মর্তুজার চোখে পড়বে।

এমনিতেই হাতে থাকা মোবাইলের ফ্লাশে ধারন করলাম যুবকের ছবি। সেই ছবিতেই বলে দেয় মধ্যবিত্ত পরিবারের স্টাইলিশ যুবক যাত্রা পথে আছেন। এক পর্যায় বললো ভাই আবার কথা হবে, দেখা হবে এমন প্রতিশ্রুতি রেখে অনটাইম কাপে লাল রং এর চা এক হাতে অন্য হাতে রিক্সার হ্যান্ডেল ধরে রিক্সা চালিয়ে উদাস মনে গান গাইতে গাইতে ছুটলেন নিজের গন্তব্যে।

ওর মুখে মাশরাফির নানা গল্প মনে পড়লেও একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবারের এই সন্তানের উদাসি জীবন আর্থিক দন্যতায় দুর্ভল নয়, শাখের বসে রিক্সার হ্যান্ডেল ধরছে। কিন্তু নেপথ্যে আসলে ্ওদের পরিবারের আর্থিক দন্যতা আছেকিনা তা বিধাতাই জানে। কিন্তু বিস্ময় জাগে মাশরাফি বিন মর্তুজার ভাইয়ের জীবন এমন হবে কেন।

আমাদের ফেসবুক পাতা


© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares