মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ৩:০১

বরিশালের এক সময়ের ছাত্রদল নেতা এখন আ’লীগের সম্পাদক প্রার্থী!

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়েছিল। সেই যোগদান এখনো চলছে। কিন্তু এসব ‘নব্য আওয়ামী লীগারদের’ নিয়ে এখন বিপাকে আছে দলটি। তাই এসব ‘নব্য আওয়ামী লীগারদের’ তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

আওয়ামী লীগে ‘হাইব্রিড’ ও ‘কাউয়া’ শব্দ দু’টি বহুল পরিচিত। এই দু’টি শব্দ কয়েক বছর আগে সামনে নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মূলত যারা সুযোগ- সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তাদেরই তিনি ওই দুই নামে অভিহিত করেন থাকেন। এই নব্য আওয়ামী লীগের কারণে কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এখন।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর ২০০১ বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় আসে,তখন বরিশাল নগরীতে বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল,যুবদলের ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছিল। বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতা সেন্টু,জেহাদ,হেলালের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি গাউসেল আলম লাল চেয়ারম্যান এর পুত্র মোঃ ফজলে খান রাব্বি। ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে তখন রাব্বি বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাধারন শিক্ষার্থী এবং ছাত্র লীগের কর্মীদের ব্যাপক অত্যাচার নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্র বলছে, ২০১২ সালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে একটি নাইন এম এম (9.m.m) পিস্তল সহ ফজলে রাব্বি এবং তার দুই সহযোগী ফয়েজ আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম বাবুকে আটক করে র‍্যাব ৮ এর সদস্যরা। এখনো তার বিরুদ্ধে সেই অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,২০০১ সালে বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন বরিশালের ছাত্রদল ক্যাডারদের নির্যাতনে আমরা সহ সাধারন শিক্ষার্থীদেরও তারা ছাড় দেয়নি। রাব্বি যে ছাত্রদল নেতা জেহাদের খাস কর্মী ছিল তা কারোরই অজানা নয়। তবে আমার ভাবতে অবাক লাগে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী থেকে কিভাবে আ’লীগের পদ প্রত্যাশী হয়। তিনি আরো বলেন,বর্তমানে আওয়ামী লীগের বাইরের লোকজন যেভাবে দলে যোগদান করছে তাদের মধ্যে কিছু জামায়াত শিবিরের লোকজনও দলে যায়গা করে নিয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের দাপটে আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।

এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান,রাব্বির বাবা গাউসেল আলম লাল (চেয়ারম্যান) অনেক আগে থেকেই আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত এবং একজন সফল একজন চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। কিন্তু তারই সন্তান হয়ে কিভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছে রাব্বি সেটাই ভাবার বিষয়। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংঘর্ষে এ বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠে আসছে, কার হাতে কারা মার খাচ্ছে। মূলত সবাই আওয়ামী লীগ। কিন্তু কে পুরাতন আওয়ামী লীগার আর কে নব্য আওয়ামী লীগার। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় আছেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শামসুল আলম চুন্নু বলেন,
বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রীবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে আ’লীগের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। এবারের কমিটিতে কোনো প্রকার নব্য আ’লীগের স্থান হবেনা। তিনি আরো বলেন,বিগত দিনে যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আর সামনের সম্মেলনে তারা দলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সভাপতি-সেক্রেটারি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি বিগত দিনে দলের কোনো সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বা অন্য দল থেকে যোগদান করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করার ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এব্যাপারে ফজলে খান রাব্বির বক্তব্যের জন্য তার সাথে যোগাযোগ করতে তার ০১৭১৭……৫৯ নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares