শনিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ভোর ৫:৫৫

নারী কেলেঙ্কারীতে অধ্যক্ষ মুকুল থেকে চেয়ারম্যান ফারুকঃ সারাদেশ তোলপাড়

নারী কেলেঙ্কারীতে অধ্যক্ষ মুকুল থেকে চেয়ারম্যান ফারুকঃ সারাদেশ তোলপাড়

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের । ঘুরে ফিরে বাইশারী কলেজের নামটি নারী কেলেঙ্কারীতে জরিয়ে যাচ্ছে।

নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যেই সাময়িক বহিস্কার হয়েছে বাইশারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুল।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নারী কেলেঙ্কারীতে ফেঁসে গেছেন বাইশারী কলেজের সাবেক সভাপতি, বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফারুক।

তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে । ধর্ষণের শিকার মেয়েটি গতকাল ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঢাকার ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে প্রায় দেড় মাস ধরে ফারুক ধর্ষণ করে আসছিলেন।

জানা গেছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে কেউ থাকে না সেখানে। ফারুক মাঝে-মধ্যে বানারীপাড়া থেকে এসে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। ওই ফ্ল্যাটেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বাসা রাজধানীর পল্লবী এলাকায়। তিনি সেখানে বিউটি পার্লারে কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। গত মাসের শুরুতে মেয়েটির মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। রং নম্বর হওয়ায় মেয়েটি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপরও একই নম্বর থেকে কল করা হত তাকে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল গোলাম ফারুক। সম্প্রতি তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা কৌশল করতে থাকেন তিনি। বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রæতি দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। প্রত্যাখাত হয়ে ফারুকের বিরুদ্ধে মেয়েটি ভাটারা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার গোলাম ফারুকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকার ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, গোলাম ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বেলা ৩ টায় এজাহার রুজু করা হয়। ভাটারা থানার মামলা নং ৪৬।

গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর এ ঘটনার আগে বাইশারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ পাওয়া যায়। অধ্যক্ষ মুকুলের সঙ্গে অন্য একটি কলেজের সহকারী নারী লাইব্রেরিয়ানের আপত্তিকর কিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এতে কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন হয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ ২১টি অভিযোগ’র জবাব না দেয়ার প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করেন কলেজ গভানিং বডি।এ সর্ম্পকে এলাকাবাসী বলেন, বাইশারী কলেজের বহিস্কৃত অধ্যক্ষ মুকুলের চারিত্রিক ত্রুটির বিষয়টি অনেক পুরনো। তার সাথে যোগ হলো উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাইশারী কলেজের সাবেক সভাপতি গোলাম ফারুকের নাম।
বহিস্কৃত অধ্যক্ষ মুকুলকে গোলাম ফারুকই কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। অধ্যক্ষ মুকুলকে এলাবাসীর চাপে গভানিং বডি বহিস্কার করার পরে এই ফারুক ই প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষের পক্ষে বহিরাগতদের দ্বারা চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মুকুলের পক্ষে এবং গভানিং বডির বিপক্ষে মিছিল করিয়েছিলেন। দুজনেই এখন নারী কেলেঙ্কারীতে ফেঁসে গেছে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

%d bloggers like this: