মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ৩:২১

বরিশালের ছাত্রলীগে কমিটির গুঞ্জন : কেন্দ্রীয় সভাপতিকে ঘিরে তৃণমূলে আশা

dynamic-sidebar

বিশেষ প্রতিবেদক, শফিক মুন্সি ::

শোভন – রব্বানীর কাঁধ থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভার নামিয়ে জয়-লেখকের কাঁধে তুলে দেবার খবর পুরনো হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সবাই জেনেও গেছে গত সোমবার পুরো বাংলাদেশের ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বরিশালের আল নাহিয়ান খান জয় ও যশোরের লেখক ভট্টাচার্য। বলতে গেলে প্রায় এক যুগ পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলো বরিশাল জেলার কেউ। এ নিয়ে বরিশালের নেতাকর্মীদের আনন্দের শেষ নেই। তবে এই আনন্দকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্নও। আর এসব প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং সবার আগে যে প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে সেটি হচ্ছে, দীর্ঘদিন বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যে অচলায়তন দেখা দিয়েছে তা কাটবে কি না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জানান, ” এখনি কোন শুভ সংবাদ আমি দিচ্ছি না তবে আমার মেয়াদকালে আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো সম্মেলনের মাধ্যমে বরিশালের ছাত্রলীগের অচলায়তন কাটাতে। ” বাংলাদেশের সকল সাংগঠনিক ইউনিটগুলোতে সম্মেলন আয়োজন করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার শক্ত নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জয় আরো বলেন, ” ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও ছাত্রবান্ধব করার ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনার যে নির্দেশ আমাদের ওপরে আছে তা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পালন করা হবে। যেসব জায়গায় কমিটির মেয়াদ দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে সেসব জায়গায় অতিসত্বর নতুন কমিটি দেয়া হবে।” তাই স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা করতেই পারে বর্তমান নেতৃত্বের আগামী দশ মাসের মেয়াদকালের যেকোনো মুহুর্তে আসতে পারে নতুন কমিটির ডাক।

সর্বশেষ ২০১১ সালে বরিশাল জেলা ও মহানগরে নতুন নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এক বছর মেয়াদের কমিটি চলছে আজ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে জেলা কমিটি দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ হলেও মহানগরীর নেতারা গায় লাগাতে পারে নি কোনো পদবীর তকমা। তিন সদস্যের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার আর সাংগঠনিক সম্পাদক রাজনীতির বাইরে৷নগর ছাত্রলীগের ব্যাপারে কাগজ কলমে একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সভাপতি জসিম উদ্দিনও রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা। সাংগঠনিক কোনো বিতর্ক কিংবা আওয়ামীলীগ বিরোধী কোনো কার্যকলাপে লিপ্ত না থাকলেও অদৃশ্য কারণে সক্রিয় রাজনীতি তিনি করতে পারছেন না। জেলা কমিটির সভাপতি – সাধারণ সম্পাদক রাজনীতির মাঠে থাকলেও বয়সের ভারে ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেবার মতো অবস্থায় তারা আর নেই।

এমন অবস্থায় বরিশালের ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ তৃণমূল থেকে দেওয়া হচ্ছিল বারবার। দীর্ঘদিন ধরে এক প্রকার শীর্ষ নেতৃত্ব শূন্য বরিশাল মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীদের স্বপ্ন ছিল নতুন কমিটি।অবশেষে আল নাহিয়ান খান জয়ের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার সংবাদে হাজারো নেতাকর্মীর জিইয়ে রাখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবার প্রহর গুণছে। আর নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা নেতাকর্মীরাও এবার নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বরিশালের ছেলে জয়ের আসার ঘটনায়। বরিশালের মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারে এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেও এ ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের বিজয় কেতন ওড়াবার লড়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থানে আছেন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহমেদ খান। নতুন কমিটির ব্যাপারে আশাবাদী রাজিব আহমেদ বলেন, ” বরিশালের ছাত্রলীগের রাজনীতির একটি সংকটময় মুহূর্তে বর্তমান বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নির্দেশনায় আমি ছাত্রলীগকে নতুনভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাই অবগত আছেন। আমৃত্যু আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে থাকার যে ব্রত আমি নিয়েছি সেটা বিবেচনা করে আমাদের সবার অভিভাবক জননেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি মাথা পেতে নেবো “। স্থানীয় ছাত্রলীগের ব্যাপারে দক্ষিণ বঙ্গের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক খ্যাত আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাইরে যাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন আলোচনায় থাকা এই ছাত্রনেতা।

পদ প্রত্যাশীর তালিকায় থাকা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহিদুর রহমান মাহাদ বলেন, ” স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের আদর্শ ধারণ করে এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোনো কাজ কখনো আমার দ্বারা সংঘটিত হয় নি । বিরোধী আমল থেকে রাজনীতি করলেও আমি ছাত্ররাজনীতিকে টেন্ডার কিংবা চাঁদাবাজির ঢাল হিসেবে কখনো ব্যবহার করি না। বরিশালের রাজপথে আমার শ্রমের ব্যাপারে জননেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং বর্তমান পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি সহ বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সবাই জানেন। ” আল নাহিয়ান খান জয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভার পাওয়াকে নিজেদের জন্য আনন্দের দাবি করে মাহাদ আরো বলেন, ” আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন – সংগ্রাম, আনন্দ – হতাশার সাথে তিনি পরিচিত। আশারাখি তাঁর সহায়তায় আমরা বরিশালের ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। ”

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান দুই সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত ও আতিকুল্লাহ মুনিমও আছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত শীর্ষ পদ দখল করবেন এমনটাই আশা সাজ্জাদ পন্থী বিশাল কর্মী বাহিনীর। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে তার বিশেষ সখ্যের খবর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে পোস্টমর্টেম। সম্প্রতি বিএম কলেজ কর্মপরিষদ (বাকসু) এর নির্বাচনের রব উঠলে ভিপি পদে লড়াইয়ের জন্য আতিকুল্লাহ মুনিমের বেশ দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রত্ব না থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ স্থানীয় গণমাধ্যম গুলোতে চাউর হওয়া শুরু হলে থেমে যায় সে দৌড়ঝাঁপ। তবে তার জেলা বা মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ লাভের সম্ভাব্যতা অন্য অনেকের চেয়ে বেশি এমনটাই গুঞ্জন চলছে। তারা দুজনই বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলয়ের বেশ দাপুটে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত।

তবে সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়ে বিতর্ক ছাড়া কমিটি করা হবে এমনটা আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন ছাত্রলীগের দায়িত্বভারে থাকা বরিশালের ছেলে জয়। তিনি উদাত্ত ঘোষণা দেন, ” কোনো রকম বিতর্কিত কাউকে নিয়ে কমিটি হবে না। টেন্ডারবাজ- চাঁদাবাজ সহ যেকোনো ধরণের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মানুষেরা ছাত্রলীগের পদ পাবে না। ” সেক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতির নিজ জেলায় কমিটি অনুমোদনে সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকবে এ ব্যাপারে আগাম ধারণা করা যায়। সেই ধারণাকে আরো পোক্ত করে নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে যেকোনো তথ্য মিডিয়া কর্মীরা যেন তাকে সরবরাহ করে এমন আহবানে। গত সোমবার ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে এ আহবান জানান তিনি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

shares