শনিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ৪:৩২

বরগুনার হত্যাকান্ডে সরষের মধ্যেই ভূত নেই তো ?

dynamic-sidebar

শফিক মুন্সি : বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ইতোমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দেশের সর্বমহলে। রিফাত শরীফ (২৩) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে তা ভাইরাল হওয়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে।ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত শরীফ ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কলেজ থেকে বের হওয়ার সময়ই চার-পাঁচ জন তাদের ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে দুজন রিফাতকে রামদা হাতে একের পর এক আঘাত করে চলেছেন।

স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না। রিফাতকে বাঁচানোর জন্য তার স্ত্রী চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারী যুবকরা রিফাতকে রক্তাক্ত করে সবার সামনে দিয়েই চলে যায়। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।হামলার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশের কথা জানান।এদিকে, রিফাত হত্যার ঘটনায় হাইকোর্ট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এ মামলার সবশেষ তথ্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

হামলার ঘটনার সময়ে স্ত্রীর সাহসী ভুমিকা নিয়ে প্রথমে সবাই আশ্চর্য হলেও পরবর্তীকালে এলাকাবাসী ও মৃত রিফাতের বন্ধুদের বিভিন্ন বক্তব্যে ইতোমধ্যে জনমনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবী, মৃত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ছিলেন হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া নয়ন বন্দের সাবেক স্ত্রী। নয়ন এর আগে একবার জেল খাটার সময়ে মিন্নি তাকে তালাক দিয়ে গত দুইমাস আগে রিফাতকে বিয়ে করে। তবে বিয়ের পরও নাকি মিন্নি নয়নের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করেছিল।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নয়ন ও রিফাতের স্ত্রীর বিভিন্ন ছবি এসব আলোচনায় ঘি ঢেলে দিয়েছে।

এসব ব্যাপারে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেন, “বিয়ের আগে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্দের একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রিফাতের সঙ্গে বিয়ে হয় মিন্নির। এটা মেনে নিতে পারেনি নয়ন বন্দ। রিফাতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারও করায় সে। এছাড়া মিন্নিকে নানাভাবে উত্ত্যক্তের পাশাপাশি ফেসবুকে তাকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার রিফাতের সঙ্গে নয়নের দ্বন্দ্ব হয়। এ দ্বন্দ্বের কারণেই রিফাতকে লাশ হতে হলো।”

অন্যদিকে নিহত রিফাতের আরেক বন্ধু ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী অভিষেক রায় বলেন, “মিন্নির সাথে প্রথমে নয়নের সম্পর্ক ছিলো এবং এক পর্যায়ে বিয়ে হয়। নয়ন জেলে যাবার পর নয়নকে ডিভোর্স দিয়ে রিফাতের সাথে বিয়ে হয় মিন্নির। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আবারো নয়নের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় মিন্নি।আমার মনে হয় রিফাত জেনে যাবার কারনে মিন্নি পরিকল্পিত ভাবে নয়নের সহযোগীতায় রিফাতকে হত্যা করিয়েছে।”

হত্যাকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রতিপত্তিশালী হওয়ায় নির্ভয়ে এমন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে পেরেছে। তবে এলাকাবাসীসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে দেখা গেছে সেগুলো হলো, সিসি ক্যামেরার বদৌলতে যদি ভিডিওটি ভাইরাল না হতো তবে ঘটনাটি কি এভাবে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতো? মেয়েটা যে অসীম সাহস নিয়ে ধারালো অস্ত্রধারীদের মুখোমুখি হলো সেখানে আলাদা কোনো সমীকরণ নেই তো? খুনির সঙ্গে নিহত রিফাতের স্ত্রীর যোগাযোগ কি সরষের ভিতরেই লুকিয়ে থাকা ভূত?

তবে সচেতন মানুষেরা বলছেন , মিন্নির অসংযত অতীতের দোহাই দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকের এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের পক্ষে কোন সাফাই গাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত উচিত সমস্ত দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা। খুনিদের জবানবন্দি ই বলবে, এই খুনের মূল কারণ কি? হয়তো তাঁর স্ত্রী !

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

%d bloggers like this: