শনিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ভোর ৫:২৪

সত্যজিৎ রায়ের জন্মই হয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য!

সত্যজিৎ রায়ের জন্মই হয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য!

dynamic-sidebar

তৎকালীন সময়ে আয়ের পরিমাণ কম হলেও সত্যজিৎ (২ মে, ১৯২১ – ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২) নিজেকে বিত্তশালীই মনে করতেন, কেননা পছন্দের বই বা সঙ্গীতের অ্যালবাম কিনতে কখনোই তাঁর কষ্ট হয়নি। এটাই ছিল বাংলা সিনেমার জাদুকর খ্যাত অসাধারণ নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সাধারণ জীবনযাপন। কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশে বিদেশে নানান পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে চলচ্চিত্র বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার অস্কার লাভ তাঁর সমস্ত কর্মজীবন কে করেছেন আকর্ষণীয়। রঙিন কর্মজীবন এর অধিকারী এ চলচ্চিত্র বিপ্লবীর ব্যাক্তিগত ও দাম্পত্য জীবন ছিল সাধারণ রঙের। সারাটাজীবন পরিবারকে নিয়ে থেকে গেছেন মামার বাড়িতেই এমনকি বেশির ভাগ কাজে জড়িয়ে ছিল স্ত্রী – সন্তানও। তবে অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় এর সঙ্গে কিছু একটার গুঞ্জন শোনা যেত আড়ালে আবডালে।

চাকরিসূত্রে লন্ডন শহরে গিয়ে ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী চলচ্চিত্র দ্যা বাইসাইকেল থিফ (বাইসাইকেল চোর) দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হন। শুরু করেন ‘পথের পাঁচালী ‘ দিয়ে। তারপর থেকে একে একে সেলুলয়েডের সাদা কালো দুনিয়ায় জীবন্ত রঙিন স্বপ্ন জন্ম দেওয়া মানুষটির নাম সত্যজিত রায়, প্রিয়জনদের কাছে মানিক দা। শুধু সিনেমা নয় ; সাহিত্য, চিত্রাঙ্কণ, সঙ্গীত ইত্যাদি বিভিন্ন কলায় নাম কামানো এই সব্যসাচী কিংবদন্তির জন্ম কলকাতার বিখ্যাত রায় পরিবারে, দিবসের হিসেবে তাই আজ আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। ফেলুদা,প্রফেসর শঙ্কু কিংবা গুপী গাইন বাঘা বাইন সহ আরো অজস্র সৃষ্টি দিয়ে আমাদের শৈশব – কৈশোর রঙিন করা মানুষটা আজ বেঁচে থাকলে হতেন আটানব্বই বছরের সিনিয়র সিটিজেন, তবে একমাত্র নিজ দেশের গন্ডির মধ্যে নয়, হতেন গোটা দুনিয়ার!

পূর্বপুরুষদের ভিটা আমাদের এই বাংলাদেশে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাঁর হৃদয়ে দাগ কেটে গেছিলো গভীর ভাবে, যার ওপর বানাতে চেয়েছিলেন সিনেমা। কিন্তু উইকিপিডিয়ার মতে, মুক্তিযুদ্ধকে রাজনীতির হাতিয়ার কিংবা ব্যবসাদারী পণ্য বানাতে চান নি বিধায় সিনেমা করার দিকে এগোন নি। আজ যখন স্বাধীনতার কথা বলে অনেকে মুখে ফেনা তোলে শুধুমাত্র নিজ স্বার্থ হাসিলের আশায় তাদের কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা উচিত বিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা যে কিনা অন্য দেশের নাগরিক ছিলেন; সে কতটা সম্মানের চোখে দেখতেন আমাদের এ অর্জনকে! উনিশশো বাহাত্তর সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের অতিথি হয়ে যখন ঢাকায় এসেছিলেন, নিজেকে তিনি দাবী করেছিলেন এ দেশের মানুষ হিসেবে। এই মহান মনের মানুষটিকে তাই তাঁর বাংলাদেশের মানুষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। শিল্প জগতে তাঁর কাজগুলো নিয়ে বারবার চর্চা করা তাই আমাদের নিজেদের জন্যই প্রয়োজনীয়, সভ্য বিনোদনের জন্য অপরিহার্য।

চিদানন্দ দাসগুপ্ত ও অন্যান্যদের সাথে মিলে সত্যজিত রায় কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। আজীবন চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন নিজের প্রয়োজনে, দর্শকদের রুচি তৈরির প্রয়োজনে সর্বোপরি শিল্পের প্রয়োজনে। সম্পাদনা করেছেন বিখ্যাত ‘ সন্দেশ ‘ পত্রিকাটিও। আজ যখন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব মানে রঙ-বেরঙের স্ক্যান্ডেল, শিল্প মানে অশ্লীলতার মোড়কে বন্দী কিছু অসভ্যতা তখন মানিক দার গোটা জীবনটাই হতে পারে পর্দার সামনের – পিছনের মানুষদের জন্য আদর্শ। আর সুস্থ বিনোদনের সংকট অনস্বীকার্যতার এ যুগে বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর বিভিন্ন কোণে পৌঁছে দেওয়া এ মানুষটার কাজগুলো গোগ্রাসে গিলতে পারাটাও যে কারো জীবনে অন্যতম অর্জন হিসেবে জ্বলজ্বল করবে, তৈরি হবে স্রোতের তালে গাঁ না ভাসিয়ে বরঞ্চ বাঙালী হিসেবে গর্ব করার অদম্য মানসিকতা।

লেখক : শফিক মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

%d bloggers like this: